Description
হেজেমনির ধারণাটি প্রাচীন গ্রিক আমলে সৃষ্টি হয়েছিল। সেই সময়কার গ্রিস বেশ কয়েকটি ছোট ছোট “সিটি স্টেটে” বিভক্ত ছিল। এথেন্স, স্পার্টা, কোরিন্থ এবং থিবস ছিল এসব “সিটি স্টেটের” উদাহরণ। হেজেমনির আদি পর্বে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরের গণ্যমান্য এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের উদ্দেশ্য করে শব্দটির প্রয়োগ সীমাবদ্ধ থাকলেও পরবর্তী সময়ে এটি উপরোক্ত “সিটি স্টেটের” মধ্যকার সম্পর্ক নির্ণয়ের ক্ষেত্রেও ব্যবহার হতে থাকে। বর্তমান সময়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা হেজেমনিকে প্রধানত দুর্বল রাষ্ট্রের ওপর আঞ্চলিক অথবা বিশ্বপরিমণ্ডলে শক্তিধর কোনো রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবেই দেখে থাকেন।
আমাদের দক্ষিণ এশিয়ার সর্বাধিক শক্তিশালী দেশের আঞ্চলিক প্রভু বনে যাওয়ার বাসনাকে সেই ১৯৪৭সাল থেকে উপমহাদেশের অপর পারমাণবিক অস্ত্রসমৃদ্ধ দেশ পাকিস্তান সাধ্যমতো বাধা দিয়ে এসেছে। সার্কভুক্ত অন্যান্য দেশসমূহের মধ্যে একমাত্র ভুটান ব্যতীত অন্য কোনো তুলনামূলক দুর্বল দেশই ভারতের হেজেমনি প্রতিষ্ঠার ইচ্ছাকে বিনা প্রতিবাদে দীর্ঘ সময়ের জন্য মেনে নেয় নাই। বাংলাদেশে শেখ হাসিনার পনেরো বছরের ফ্যাসিবাদী জামানায় ভারতের যে আধিপত্যবাদী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তার বিরুদ্ধে সৃষ্ট গণরোষ হাসিনার পতনের অন্যতম কারণ বলে আমি অন্তত মনে করি। ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব তাই একাধারে হাসিনার ফ্যাসিবাদ এবং ভারতীয় হেজেমনির বিরুদ্ধে নিরস্ত্র জনগণের এক স্বতঃস্ফূর্ত গণপ্রতিরোধ হিসেবে ইতিহাসে বিবেচিত হবে।
….সকলের স্মরণে রাখা আবশ্যক যে, দিল্লি কোনো দিন বাংলাদেশকে অধিভুক্ত করতে চাইবে না কারণ, অতিরিক্ত প্রায় ২০ কোটি মুসলমান হিন্দু ভারতের জন্য এক বিরাট হুমকি হয়ে উঠবে। আগ্রাসী দেশটির নীতিনির্ধারকরা বাংলাদেশকে শেখ হাসিনার মতো কোনো এক ভবিষ্যৎ পুতুল শাসকের মাধ্যমেই পুনরায় অঘোষিত উপনিবেশ বানানোর পরিকল্পনা করতে পারে। আমাদের তরুণ প্রজন্ম জুলাই আন্দোলনে দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় বর্মের মতো ভূমিকা নিয়েছিল। তাদের ওপর আমার অগাধ আস্থা আছে। এখন প্রয়োজন সমগ্র জনগোষ্ঠীকে আত্মপরিচয়ে উদ্বুদ্ধ করে হেজেমনির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সংগ্রামে সম্পৃক্ত করা। আমার এই বইটি যদি সেই লড়াইয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক কোনো ক্ষুদ্র ভূমিকাও রাখতে পারে তাহলে নিজেকে ধন্য মনে করব।





Reviews
There are no reviews yet.