Description
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
সালাম ও শান্তি বর্ষিত হোক আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা প্রেরিত প্রত্যেক নবীর ওপর।
নবীদের জীবন নতুন কোনো কাহিনি নয়। অতীতে অসংখ্যবার নবীদের জীবন নিয়ে বই লেখা হয়েছে। কিন্তু কিছু কাহিনি আছে যা বারবার লিখতে হয়, নতুন করে লিখতে হয়। কারণ সময়ের সাথে মানুষের ভাষা বদলায়, শব্দের অর্থ বদলায়। মানুষের জগৎটা স্থান-ফালে আবদ্ধ, তায় শব্দের ভাণ্ডার সীমিত, তার ভাবনাগুলো কোনো না কোনোভাবে পক্ষপাতের দোষে দুষ্ট। এই সীমাবদ্ধতাগুলো নিয়ে যখন হাজার বছর আগের কোনো বাস্তবতাকে শত বছর আগের একটি বই পড়ে বুঝতে চায়, তখন অবধারিতভাবে কিছু অর্থ হারিয়ো যায়, কিছু কথা বদলে যায়। কিছু কথা পাঠক ভুল বোড়ে কিংবা বোমেই না। আয় তখন ঘটনাগুলো হয়ে যায় গল্প’, যা মনে থাকে কিন্তু ছাপ রাখে না।
নবীদের জীবন থেকে পাওয়া ঘটনা নির্দিষ্ট কোনো সময়ে, নির্দিষ্ট কোনো স্থানে ঘটলেও এর শিক্ষাগুলো সময় কিংবা স্থান দ্বারা আবদ্ধ নয়, আর এ কারণেই আল্লাহ তায়ালা কুরআনে ঘটনাগুলো আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন। তাই এই বিষয় নিয়ো পূর্বের্যার লেখাগুলোর আলোকে প্রত্যেক যুগে নতুনভাবে বই লেখা উচিত, যেন বাতীতের এই ঘটনাগুলোর প্রাসঙ্গিকতা আমাদের জামানাতেও আমরা ধরে রাখতে পারি। সে চিন্তা থেকে এই বইটি প্রকাশ করা।
নবীদের কাহিনিগুলো আত্মস্থ করলে একজন মুসলিমের স্বাস্থ্য ওয়ার্ল্ডভিউ তৈরি হয়, যার দ্বারা সে সাক্ষ্য-মিথ্যা চিনতে পারে। শয়তান কখনো মানুষের কাছে এসে বলে না, ‘আমি তোমার সর্বনাশ করতে চাই।’ সে বলবে, “আমি তোমার জন্য কল্যাণ চাই, মুক্তি চাই, অধিকার চাই, সমতা চাই, প্রগতি চাই।’ এই কল্যাণ’, ‘স্বাধীনতা’, অধিকার’, ‘সমতা’ আর ‘প্রগতি’—এসবের সঠিক অর্থ উদ্ঘাটন তখনই আমরা করতে পারব যখন ইসলামের ওয়ার্ল্ডভিউ দিয়ে আমরা পৃথিবীকে দেখব, আবিষ্কার করব এই কথাগুলো অতীতে কেউ না কেউ বলেছে— ইবলিস বলেছে, মুহ, হুদ, সালেহ, শুআইব আলাইহিমুসসালাম — তাদের সময়কার ক্ষমতাসীনরা বলেছে, নমরুদ আর ফিরআউন বলেছে, আর এখন বলছে পশ্চিমা সেক্যুলায়শক্তি। জাহেলি সমাজের আহ্বান একটাই—আল্লাহকে বাদ দিয়ে মানুষের গোলামি করা—এটাকে তারা প্রতিষ্ঠা করতে চার একেক যুগে একেক ভাষার। এ কারণে জাহেলিয়াতের ভাষা ও ব্যান বোঝার জন্য নবীদের কাহিনি জানা জরুরি।
নবীদের জীবন সম্পর্কে জ্ঞান একজন মুসলিমের আল্লাহর ওপরে ঈমান বৃদ্ধি করবে। ইসলাম সম্পর্কে আমরা অনেকেই অনেক কিছু জানি-বুঝি, কিন্তু সঠিক অবস্থান নিতে পারি না। সামান্য চাপে ভেঙে পড়ি, বুঝেও বুঝি না, জানা উত্তরে ভুল করি। আসলে কিছু সময় আছে যখন তথ্য-উপাত্ত, মুক্তি, ক্ষমতা— কিছুই কাজে আসে না। যখন এসবের কিছুই কাজ করে না, তখন কাজে আসে ঈমান। অনেক জেনেও কেউ ঈমানহারা হয়, যম জেনেও অনেকে ঈমানের ওপরে টিকে থাকে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা কুরআনে এই কাহিনিগুলো বলেছেন যেন আমাদের অন্তরগুলোতে ঈমান মজবুতভাবে গেড়ে বসে, যেভাবে করে উর্বর মাটিতে বেড়ে ওঠা বৃক্ষ দমকা হাওয়ার ঠায় দাঁড়িয়ে থাকো, কখনো করো যারা না।





Reviews
There are no reviews yet.